আজ পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ রোজ মঙ্গলবার,, বছরের ইতিহাস ও স্মৃতিগুলোকে পেছনে ফেলে উদিত হল নতুন সূর্য, পহেলা বৈশাখর শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য যৌথভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করে, শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে, মহিলা কলেজ কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ হয়ে, রথখোলা রোড দিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় শোভাযাত্রাটি সমাপ্তি হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন গাজীপুর দুই আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল করিম রনি। গাজীপুরের সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয়, গাজীপুর প্রেসক্লাবের দৈনিক কালের সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, এটিএন বাংলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম মাসুম, বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদি, প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী, আনসার বাঁধক দল সহ, গাজীপুর সাংস্কৃতিক ঐক্যর ২৭ টি সংগঠন এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। গাজীপুর সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক বিশিষ্ট অভিনেতা বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিষ্ট নাট্য শিল্পী আশরাফ হোসেন টুলু, মেম্বার সেক্রেটারি শাহনাজ শিল্পী বিশিষ্ট অভিনেতা এবং গাজীপুর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বাচিত নেতা হাসান জুননুরাইন সোহেল, আহবায়ক গাজীপুর মহানগর জাসাস, কৌশিক খান, সদস্য সচিব গাজীপুর মহানগর জাসাস সহ জাসাসের বিভিন্ন থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া গাজীপুর সাংস্কৃতিক জোট নেতা সৈয়দ মোকসেদুল আলম লিটন, মঞ্চ মুখ এর প্রতিষ্ঠাতা রফিক উদ্দিন, শোভাযাত্রায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় তুলে ধরেন অন্তরা শিল্পীগোষ্ঠী। বিভিন্ন প্লে কার্ডে মাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরেন, যেখানে দেখা যায় কৃষক ধান ক্ষেতে থেকে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। বাড়িতে নিয়ে ধানগুলো গরু দিয়ে মাড়াই করছে, তাদের প্লেকার্ডে দেখা যায়, সাগরে মাছ ধরার ট্রলার দিয়ে মাছ ধড়ার দৃশ্যের পাশাপাশি, ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ধর্ম জাল দিয়ে মাছ ধরা, ঢেঁকিতে বানা, বর্ষাকালে জলাশয় থেকে শাপলা তোলার দৃশ্য, গরুর গাড়ি দিয়ে ধান নিয়ে আসার পাশাপাশি গরুর গাড়ি দিয়ে নতুন বউ নিয়ে আসার দৃশ্য টা, নিয়ে আসা হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ধর্মীয় রীতিনীতি এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের পাশাপাশি পাহাড়ি নারীদের বিভিন্ন উৎসবের নাচের দৃশ্য। মৃৎশিল্প মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানানের দৃশ্য। গ্রাম্য মেঠো পথ পুকুর খাল নদনদী সাগর প্লে কার্ডের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে, বৈশাখী আনন্দ উৎসব এবং শোভাযাত্রা টিকে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চাষি লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ করছে, এটাকে ফুটিয়ে তোলা। চা শ্রমিকরা চায়ের পাতা সংগ্রহ করার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা। ক্ষেত খামার খামার নদী নালা জলাশয় ঘরবাড়ির ওপর দিয়ে সূর্যো উদয়ের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা। ধান ক্ষেতে সেছ দেওয়ার দৃশ্য ফুরিয়ে তোলা সহ, আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে প্লেকাডে মাধ্যমে ধারণ করে,, শোভযাত্রায় প্রদর্শন করায় শোভাযাত্রাটি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সকলের মুখে মুখে ছিল অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠীর নাম। অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা বর্তমান সভাপতি নাট্যকার পরিচালক অভিনেতা জনাব মুছা খান রানা বলেন। হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে বাঙালি ধারণ করতে না পারলে বাংলাদেশ কখনোই স্বনির্ভর হয়ে উঠবে না। দেশকে খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কৃষক ভাইদের উৎসাহ যোগানোই ছিল আমাদের অন্তরা শিল্পীগোষ্ঠীর মূল লক্ষ পাশাপাশি যারা শহরের মানুষ তারা অনেকেই গ্রামের ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা না থাকায়, তাদের মধ্যেও আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যর প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে ধারনা দেওয়াই ছিল আমাদের লক্ষ্য। অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠীর এক ঝাঁক তরুণ তরুণী শিল্পী কলা কৌশলীরা প্লেকাড গুলো বহন করে শোভাযাত্রাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। এবং অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠীর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকে শোভা যাত্রায় আগত সকলের প্রশংসার করেছে অনেকেই বলেছে অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠী যে প্লে কার্ডগুলো শোভাযাত্রায় প্রদর্শন করেছে তাতে শোভাযাত্রার মান অনেক উর্ধ্বে উঠে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি মুছাখান রানা বলেন, এখন থেকে গাজীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে দেশীয় সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ করার কাজে নিমগ্ন থেকে শিল্পী কলা কৌশলীদের উন্নতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তোলে দেশীয় সংস্কৃতির উপর বিশেষ নজরদারি রাখবে। পাশাপাশি অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অপসংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
খুব সুন্দর আয়োজন সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে