শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo সাতসকালে ভারতের মণিপুরে সশস্ত্র হামলা, ৩ জনের প্রাণহানি ও বহু বাড়ি ধ্বংস Logo জলকেলির মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাহাড়ের সামাজিক উৎসব Logo শুভ নববর্ষ উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য যৌথভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন Logo গাজীপুরে সংস্কৃতি ঐক্য বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জম কালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে Logo নোয়াখালীতে ১ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবা ও ৮০ হাজার টাকা সহ আটক ১ Logo মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: বিদেশি মদ ও নগদ টাকা উদ্ধার Logo নোয়াখালীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান: তিনটিআগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার Logo পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁয় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজা, ২২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ২৫ লিটার চুলাই মদসহ ৭ জন গ্রেফতার Logo ফেনীতে প্রায় দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক Logo রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাজীপুর নির্বাচন বিএনপি-সমর্থিত বাবুল–টুলু প্যানেল জয়ী
শিরোনাম:
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন । যোগাযোগঃ ০১৭১২৫৭৩৯০৯ /০১৯৭২৫৭৩৯০৯

হাসতে হাসতে জেলে চলে যাওয়া রাজনীতিবিদদের কাছে একটা মুকুটের মতো।

Reporter Name / ৬৮২ Time View
Update : শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪, ৩:৫৫ অপরাহ্ন

মোঃ মুছাখান রানা, সম্পাদক প্রকাশক

হাসতে হাসতে জেলে চলে যাওয়া রাজনীতিবিদদের কাছে একটা মুকুটের মতো।

গান্ধী জেলে যাওয়ার পর রেস্ট নিতেন। লেখাপড়া করতেন। হযরত উমরের জীবনী গান্ধী জেলে বসে বসেই পড়েছিলেন।

মনে পড়ে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামে মামলা হলো। তখনও গ্রেফতার হন নাই। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলো, পালাবেন নাকি?

উনি উত্তর দিলেন, পালাবো কেন? এই এতো বড় শরীর আমার, কোথাও তো লুকাতেও পারবো না। ধরলে ধরে নিয়ে যাবে!!

সম্ভবত সাঈদীসহ অন্যান্য নেতারাও মামলা হওয়ার সময় হজ্জে ছিলেন। দেশের বাইরে। চাউর হয়ে গেল, উনারা আর ফেরত আসবেন না।

সবাই ফেরত আসলেন। বললেন, মামলা হইসে, হোক। আমি ফেইস করবো।

ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা মনে পড়ে। এই লোকটাকে সবসময়ই দেখে এসেছি কিছু হইলেই পুলিশ ধরে। রিমান্ড নেয়। হাঁটতে পারে না।

তবুও দেশ ছেড়ে গেলেন না। আপনারা জানেন কি না ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। উনি সবসময়ই একটা কবিতা পড়েন,

তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, রুহুল কবির রিজভী তিনি দেশ ও দলকে ভালোবেসে বারবার কারা বরণ করেছে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার পার্টি অফিসে তার জীবনটা কাটিয়ে দিল তবুও সে মাথা নত করে নাই

মাহমুদুর রহমান ছিলেন বিরাট ধনী মানুষের জামাই। বুয়েট থেকে পাশ করে মুন্নু সিরামিক্সে জয়েন করেছিলেন। সেই মালিক তার মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।

বাচ্চা কাচ্চা নাই। সব টাকা ফাউন্ডেশন করে দান করে দিয়েছেন।

এই লোকটা গ্রেফতার হয়েছেন, রিমান্ডে গেছেন। এমন নির্যাতন করা হয়েছে প্যান্ট পরতে পারেননি। অথচ এই লোকটা তবুও লেখা থামাননি কোনদিন।

সত্য বলার নেশা, ভয়ঙ্কর নেশা, এই নেশায় সবাই আসক্তি হতে পারে না

আন্দালিভ রহমান পার্থর কথাই বলি না কেন? শেখ হাসিনা তাঁর ফুফু ছিলেন। চাইলেই মন্ত্রী হতে পারতেন। হননি। বরং খালেদা জিয়াকে ম্যাডাম বললেন, তারেক রহমানকে বললেন মেন্টর।

ফলাফল? গ্রেপ্তার হলেন। মামলা খেলেন। এইবার তো ৫ দিনের রিমান্ডেও গেলেন।

অথচ আজ পর্যন্ত পার্থরে আমি কোনদিন অভিযোগ করতে দেখি নি। পালিয়ে যেতেও দেখেনি। বরং সবসময়ই বলেন, রাজনীতি করলে গ্রেফতার তো হতেই হবে।

খালেদা জিয়াকে বারবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বাইরে চলে যাওয়ার। যাননি। বলেছেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার কিছু নাই। আমি যাবো না।

বৃদ্ধ বয়সে জেল খানা সদৃশ কবরে যাইয়া ঢুকলেন। পালালেন না। এই আন্দোলন না হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যু হতো হাসিনার কারাগারে হতো। জেনে শুনেই এই কারাগার তিনি মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। তভুও মাথা নত করেনি স্বৈরশাসকের কাছে

রাজনীতিবিদদের কাছে গ্রেফতার হওয়া একটা আর্ট। একটা সম্মান। একটা সম্ভ্রম। যেই মুকুটটা রাজনীতিবিদরা স্বেচ্ছায় পড়েন।

রাজনীতি হলো রাজার নীতি। এখানে মানুষ মরে যাবে, মচকাবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধের নাম করে যে জুডিশিয়াল কিলিং হলো, একজন নেতাও মাফ চাননি। বলেছেন, মাফ চাইবো না।মেরে ফ্যালো।

এই মাফটা তাহেরও চান নাই। কোর্ট মার্শালে তাহেরের ফাসি হয়েছিলো। ক্যু করে সরকার ফেলার চেষ্টা করলেন। পারলেন না। কোর্ট রায় দিলো। জিয়া কালো চশমা পড়ে বন্ধুকে দেখতে গেলেন ফাঁসির আগে।

তাহের জিয়ার কাছে ক্ষমা চাননি। মরে গেছেন, মাফ চাননি।

রাজনীতিবিদরা এমন হয়। এরা ভূল করে মরে যাবে, মাথা নোয়াবে না।

যেমন মাথা নোয়াননি সিরাজ শিকাদার। মুজিবের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। মুজিবের পতনের বীজটা কিন্তু সিরাজ শিকদারেরই বপন করে যাওয়া।

সিরাজ শিকদার চাইলেই মুজিবের সাথে আপোষ করতে পারতেন। করেননি।

মুজিবের লোকজন তাকে চট্টগ্রামে ধরে হত্যা করলো। মুজিব সংসদে অশ্লীল অহংকারে বললেন, কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?

মরে গিয়ে সেদিন সিরাজ শিকদার জিতে গেলেন। আর বেচে থেকেও মুজিব হেরে গেলেন। কারণ সংসদসহ সারা দেশ জানলো, মুজিব একজন খুনি। সে প্রতিপক্ষের রাজনীতি সামলাতে না পেরে তাকে খুন করে।

যুগে যুগে রাজনীতিবিদরা মরে গেছেন, তবে মাথা নিচু করেননি।

আর আওয়ামীলীগ এর দিকে তাকান। সবাই পালাইসে। কেউ কানতেসে গ্রেফতারের সময়। ছাত্রলীগের এক নেতা সীমান্ত পার হওয়ার সময় মারা গেল।

কেন? রাজনীতিবিদ আপনি, গ্রেফতার হতে সমস্যা কী? ফেস করতে সমস্যা কী?

সমস্যা হলো, আজ পত্রিকায় আসছে, এস আলম যত টাকা খাইসে, এর অর্ধেক ভাগ নিসে রেহানা আর জয়।

আওয়ামীলীগ আসলে রাজনীতি করে নাই। করেছে চুরি।

এরা আসলে রাজনীতিবিদ না, এরা আসলে চোর বাটপার। হাসিনা, রেহানা, জয়, সালমান সবাই বাটপার।

এইজন্যই এরা গ্রেফতার হবে না। ঐ সাহস এদের নাই। এরা পালাবে। কারণ চোর তো আর গ্রেফতার হতে পারে না, চোর পারে পালাইতে।

একদল চোরকে এতোদিন আমাদের রাজনীতিবিদ বলে সম্মান দিতে হইছে, এরচে ভয়ঙ্কর লজ্জার কথা আমাদের এই প্রজন্মের জন্য আর কী হতে পারে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST