নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দীনের পরিবারের সাতজন মারা গেছেন। গাড়ি ডুবে যাওয়ার আগের অবস্থা বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গাড়ি খাদে পড়ে ডুবে যায়নি। নৌকার মতো ভাসছিল। আমি বারবার ড্রাইভারকে বলছিলাম, লক খুলতে। তবু সে খোলেনি।
প্রবাসী বাহার উদ্দীন বলেন, ‘ড্রাইভারকে বারবার বলেছি, লক খুলতে। লক খুলে দিলে সবাই সাঁতার কেটে বের হয়ে যাবে। গাড়ি জাহান্নামে যাক, তুই আগে লক খোল। পরে সে আস্তে করে জানালা দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে আমরা জানালা ভেঙে কয়েকজন বের হয়েছি। বাকি সবাই মারা গেছে।’
তিলনি বলেন, ‘যদি লক খুলতো তাহলে সবাই বেঁচে যেতো।’
বাহার উদ্দীন আক্ষেপ করে তার পরিবারের লোকদের সম্পর্কে বলেন, ‘আমি এদের সবাইকে নিষেধ করেছিলাম। এরা অল্পবয়সি, এরা যাতে না আসে। বলেছিলাম, আমি তো সকাল সকাল চলে যাব। এরা শোনেনি।’
ওমান প্রবাসী তিনবছর পর দেশে ফিরছিলেন। তাকে স্বাগত জানাতে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা গিয়েছিলেন তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু ফেরত আসার সময় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে ৭ জন নিহত হন। বুধবার (৬ আগস্ট) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
চ′ন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত সময় সংবাদকে জানান, লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী গ্রামের বাহার উদ্দিনকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন পূর্ব চন্দ্রগঞ্জের জগদীশপুরে হাইস মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে ডুবে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও বাকিরা ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান।