পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ধুয়ে-মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পাহাড়ে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপিত হয়েছে। উৎসবটি হাজার হাজার নারী-পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু, পাতা উৎসব।
গত রোববার থেকে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পার্বত্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাসরত ১১ ভাষাভাষী ১৫টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী এ প্রধান সামাজিক উৎসব শুরু হয়। মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার (মাসাস) উদ্যোগে রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনের পর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় পাত্রে রাখা পানি দিয়ে কয়েকটি দলে বিভক্ত তরুণ-তরুণী একে অপরকে পানি ছিটিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। এতে বিগত বছরের সব পাপ ও জরাজীর্ণ ধুয়ে-মুছে যায় বলে তাদের বিশ্বাস। পাশাপাশি চলে মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীগোষ্ঠীর নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা। জনশ্রুতি আছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীর একে অন্যের সাহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেয়।
সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পানি খেলা দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে সমবেত হয়। মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উৎসবে যোগ দেয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয় উৎসব।